শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

নারী-শিশুসহ নিহত অন্তত ৭৩

সংগ্রাম ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখ-ের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরে ইসরাইলী হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শনিবার গভীর রাতে হওয়া এই বোমা হামলার পর আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেকে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিবিসি, আল-জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল।

ইসরাইল বলেছে, তারা হামলায় হতাহতের রিপোর্ট পরীক্ষা করছে। কিন্তু একইসঙ্গে তারা হামাস কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে “অতিরঞ্জিত” বলে আখ্যায়িত করে বলেছে, এ বিষয়ে তার সেনাবাহিনীর কাছে থাকা তথ্যের সাথে (হামাসের তথ্য) মেলে না। শহরের ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে ইসরাইলী সৈন্যদের “ভারী বন্দুকযুদ্ধের” খবরের কয়েক ঘণ্টা পর সর্বশেষ এই হামলার ঘটনা ঘটল।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে যোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে বেইত লাহিয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলেছে, “জনাকীর্ণ” আবাসিক এলাকায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে à§­à§© জন নিহত হয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সিও ইসরাইলী হামলায় নিহতের এই একই সংখ্যা জানিয়েছে।

তবে বিবিসি স্বাধীনভাবে এই পরিসংখ্যানটি যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। ফিলিস্তিনী বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, হামলায় পুরো একটি আবাসিক কমপ্লেক্স ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) বিবিসিকে বলেছে, তারা “হামাসের সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে” হামলা করেছে এবং “বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে সম্ভাব্য সবকিছু করছে”। 

বিশেষ করে, ইসরাইলী বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ জাবালিয়া এলাকা ঘেরাও করেছে এবং বোমাবর্ষণ করে চলেছে। যার মধ্যে একটি শহুরে শরণার্থী শিবির রয়েছে - যেখানে গত শুক্রবার গভীর রাতে হওয়া ইসরাইলী হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর হামলা চালাতে পারে দখলদার ইসরাইল। গত শনিবার ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর থেকে এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে দখলদাররা। এর জেরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে তারা।

জেনেভা সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি বিষয়ক প্রধান জিন-মার্ক রিকলি জানান, নেতানিয়াহুর বাড়িতে হামলার জন্য ইরানের দিকে আঙুল তোলার ব্যাপারটি চলমান দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেছেন, “যদি আমরা নেতানিয়াহুর বাড়িতে ড্রোন হামলাকে হত্যাচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করি এবং ইরানের সঙ্গে এটির সমান কিছু ভাবি তাহলে দেখা যাবে, ইসরাইলী হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।” এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক জানিয়েছেন, হামাস ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইল যা করেছে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও একই কাজ করার চেষ্টা করবে ইসরাইল। তিনি বলেছেন, “ইসরাইল ইরানের প্রক্সি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছে। তাদের টার্গেট শুধুমাত্র হিজবুল্লাহ নয়ৃ হুথিসহ অন্যান্য দলগুলোও। তারা ইঙ্গিত দিচ্ছে হামাসের সঙ্গে যা করেছে এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে যা করছে সেগুলো অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও করবে। ফলে প্রথমে তারা এসব গোষ্ঠীর প্রধানদের হত্যা করবে। এরপর তাদের পুরোপুরি দমনের চেষ্টা করা।”

তবে ইসরাইল যদি হামলা চালায় তাহলে তাদের লক্ষ্য করে আবারও পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে নতুন করে সতর্কতা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, তারা কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধ চায় না। কিন্তু ইসরাইল হামলা চালালে বসে থাকবে না। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামাসের সাবেক প্রধান ইসমাইল হানিয়া, হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এবং তাদের কমান্ডারদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালানো হয়।

ইরানকে দুষলেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে যখন এই হামলা চালানো হয় তখন ওই ভবনে নেতানিয়াহু ছিলেন না।

এই হামলা ও হত্যাচেষ্টার জন্য ইরানকে দোষারোপ করেছেন তিনি। যদিও লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল রোববার এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর ইসরাইলের সিজারিয়া শহরে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টা পরে নেতানিয়াহু একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

সেখানে তিনি বলেন, “আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে হত্যা করার জন্য ইরানের প্রক্সি হিজবুল্লাহর প্রচেষ্টা মারাত্মক ভুল।” তিনি আরও বলেন, “আমি ইরান ও তার প্রক্সিদের এবং তার অশুভ অক্ষকে বলছি, যারাই ইসরাইলের নাগরিকদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ